কিলি জেনার। নামটা মনে হয় কিলিং জেনার হওয়া দরকার ছিল। কারণ, তার যে দেহিক গড়ন, তাতে হাজার হাজার ছেলেবুড়ো কুপোকাত। ২৩ বছর বয়সী এই যুবতীর বসবাস লস অ্যানজেলেসের হোলমবি হিলসে। যে বাড়িতে তিনি বসবাস করেন তার দাম ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ৩০৭ কোটি টাকা প্রায়। মাঝে মাষেই তিনি নিজেকে উপস্থাপন করে পোস্ট দেন। ইনস্টাগ্রামে তার অগণিত ভক্ত। তাদের উদ্দেশ্যে ২৩ শে নভেম্বর নিজের ইনস্টাগ্রামে কয়েকটি ফটো পোস্ট করেছেন। এতে তিনি সুইটস্যুট পরেছেন। সিলভার কালারের অন্তর্বাস তার মহামূল্যবান সম্পদকে কোনোভাবে ঢেকে রেখেছে। কিন্তু কোথাও কোথাও তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কেউ কল্পনা করলেই বুঝে নিতে পারেন সেখানকার গঠন ও আকৃতি। তিনি মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সমাজকর্মী, মডেল ও ব্যবসায়ী। এখানে তার সম্পর্কে বিস্তারিত না লিখে, তার নতুন পোস্ট করা সেই ছবিগুলো আপনাদের জন্য তুলে ধরছি। দেখুন তাকে-
হলিউডের ডানাকাটা পরীরা
হলিউডের একদল ডানাকাটা পরীর সঙ্গে আজ আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেব। তাদের দাপটে সারা বিশ্বে কোটি কোটি দর্শক ভক্ত এখন। এরই মধ্যে অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন তারা। তাদের পিছনে ঘোরেন কত শত নামী, দামী টাকাওয়ালা যুুবক। কিন্তু ভাগ্যের শিকে ছেড়ে না। পাত্তাই পান না। আসলে ভালবাসা তো টাকায় মাপা যায় না। তো চলুন একবার এক এক করে দেখে আসি তাদের।
স্কারলেট জোহানসন
তাকে বলা হয় হলিউটের বর্তমান সময়ের সবচেয়ে সেরা অভিনেত্রীদের অন্যতম। একই সঙ্গে সবচেয়ে যৌন আবেদনময়ী হিসেবেও তিনি বিভিন্ন জরিপে এক নম্বরে উঠে এসেছেন কয়েকবার। গোল্ডেন গেøাব এওয়ার্ডের জন্য মনোনীত হয়েছেন। বলা হয়, তিনি হলিউডের সবচেয়ে বেশি বেতনের অভিনেত্রী। তবে তাকে এখন পারিশ্রমিকের দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছেন আরেক অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। স্কারলেট জোহানসনের উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে লুসি, প্রেস্টিজ, দ্য হর্স হুইস্পার, ভিকি প্রমুখ।
জেনিফার লরেন্স
এরপরেই যার নাম করতে হয়, তিনি হলেন অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্স। ২০১৮ সাল থেকে তিনিই হলিউডে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিকের অভিনেত্রী। ২৩ বছর বয়সে তাকে তিনটি অস্কারের জন্য মনোনয়ন দেয়া হয়। এটাই এমন পুরস্কারের জন্য সবচেয়ে কম বয়সী অভিনেত্রীর রেকর্ড। কেন্টাকির লুইসভিলে বসবাস করেন তার পিতামাতা। তিনি অস্কার পুরস্কার পিতামাতার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কারণ, তার ভয় এগুলো চুরি হয়ে যেতে পারে। স্কুলে তার ডাকনাম ছিল নিত্রো।
এমা ওয়াটসন
আপনি কি জানেন মানুষ কেন এমা ওয়াটসনকে ভালবাসে? এর কারণ হলো, তিনি যেন একটি ফুলের মতো বিকশিত হচ্ছেন। হ্যারি পটার এন্ড গবলেট অব ফায়ারে অভিনয় করে তিনি বিশ্বজোড়া খ্যাতি পেয়েছেন। এর আগে যারা টিনেজ বয়সে খ্যাতি পেয়েছেন, তারা মাদক আর অন্য নেশায় জীবনকে বেশির ভাগই শেষ করে দিয়েছেন। সেদিক থেকে এমা ওয়াটসন ব্যতিক্রম।
অ্যানি হ্যাথওয়ে
দ্য ডেভিলস ওয়্যার প্রাদা’য় অভিনয়ের জন্য তাকে মেরিল স্ট্রিপের সঙ্গে যৌথভাবে গোল্ডেন গেøাব এওয়ার্ড দেয়া হয়েছে। মার্কিন এই অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন ডার্ক নাইট রাইজেজ, লাভ এন্ড আদার ড্রাগস, ব্রোকব্যাক মাউন্টেইন সহ বিভিন্ন ছবিতে।
অ্যানজেলিনা জোলি
বিশ্বের সেরা সুন্দরী নির্বাচিত হয়েছেন কয়েকবার। মেকআপে তার ভিতর থেকে যেন রূপের ছটা ঠিকরে পড়ে। তার নজরকাড়া ভ্রæযুগল, ঠোঁট যেকাউকে আকৃষ্ট করে। ২০১৯ সালে বিশ্বের সবচেয়ে হটম্যান ব্রাড পিটের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়েছে। জিতেছেন অস্কার পুরস্কার। তার রয়েছে ৬টি সন্তান।
এমা স্টোন
২০১২ সালে বিশ্বজোড়া খ্যাতি কুড়ায় দ্য অ্যামেজিং স্পাইডার ম্যান। এতে অভিনয় করে এমা স্টোন খ্যাতি পান। ২০১৪ সালে তিনি বেস্ট সাপোর্টিং একট্রেস একাডেমি এওয়ার্ডে মনোনীত হন। নেটফ্লিক্সে বর্তমানে চলছে তার ‘ম্যানিয়াক’। এটাই প্রমাণ করে তিনি কতবড় অভিনেত্রী।
সান্দ্রা বুলক
সান্দ্রা বুলকের থলিতে রয়েছে ডজন ডজন পুরস্কার। থ্রিলার ছবি ‘বার্ড বক্স’ এবং রোমান্টিক কমেডি ‘দ্য প্রপোজাল’ প্রযোজনা ও অভিনয় করেছেন তিনি। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাকেই সবচেয়ে বেশি উপার্জনের তারকা হিসেবে অভিহিত করেছিল ফোর্বস ম্যাগাজিন। যুক্তরাষ্ট্রের পিপল ম্যাগাজিন তাকে মোস্ট বিউটিফুল ওম্যান নির্বাচিত করেছিল। ২০১০ সালে টাইম ম্যাগাজিনে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ মানুষের মধ্যে ছিলেন তিনি।
গাল গ্যাডট
বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ব্যাটম্যান ভার্সাস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস-এ অভিনয়ের জন্য ২০১৬ সালে তিনি ওন্ডার ওম্যান পুরস্কার জেতেন।
ম্যাগট রোবি
বিশ্বে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অস্ট্রেলিয়ান যুবতী এই ম্যাগট রোবি। মাত্র ১৭ বছর বয়সে তিনি অভিনয় শুরু করেন। অস্ট্রেলিয়ান লোগি এওয়ার্ডে তিনি সবচেয়ে সেরা অভিনেত্রীর দুটি মনোনয়ন পান। ইন্সটাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ১৭.৭ মিলিয়ন। টাইম ম্যাগাজিনে ১০০ প্রভাবশালীর নামের মধ্যে তিনি আছেন।
নাটালি পোর্টম্যান
তিনি পুরোপুরি চরিত্রের মধ্যে ডুবে যান। ‘থোর’ সিরিজে মাত করে দিয়েছেন চারদিক।
একেই বলে কপাল!
মিশিগানের এক ব্যক্তি তার ভুল থেকে কিনেছিলেন দুটি জ্যাকপট লটারির টিকেট। প্রতিটি ১০ লাখ ডলার পুরস্কারের টিকেট। কিন্তু সেই ভুলই তাকে এনে দিয়েছে ২০ লাখ ডলারের পুরস্কার। এমন সৌভাগ্যবান মার্কিন নাগরিকের নাম সমির মাজাহেম। ডিয়ারবর্ন হাইটসে বসবাসকারী এই ব্যক্তির বয়স ৫৬ বছর। তিনি মিশিগান লটারি বিষয়ক কর্মকর্তাদের বলেছেন, দুর্ঘটনাক্রমে তিনি ৯ই জুন অনলাইনে কিনেছিলেন একই রকম দুটি মেগা মিলিয়ন পুরস্কারের লটারি। এতে পারিবারিক জন্মদিনকে টিকেটের নম্বর হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। তবে সেই নম্বরটি সেফ করে রাখতে ভুলে যান তিনি। ফলে আবারও একই প্রক্রিয়ায় আরেকটি টিকেট কেনে। দ্বিতীয়বার টিকেট কিনতে গিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি তার। ফলে তার দুটি টিকেটই কার্যকর থেকে যায়। ফলে দুটি টিকেটেই তিনি জিতে নিয়েছেন ২০ লাখ ডলারের পুরস্কার। সমির মাজাহেম বলেছেন, সম্প্রতি ওই অ্যাপে আমি যেসব টিকেট কিনেছিলাম তা চেক করতে বসি। বিস্ময়ে চোখ বড় হয়ে যায়। দেখতে পাই প্রতিটি টিকেটে ১০ লাখ ডলার করে মোট ২০ লাখ ডলার পুরস্কার পেয়েছি।
ছবির কারসাজি
বাস্তবে পাওয়া যায় মিষ্টি কুমড়া। এই মিষ্টি কুমড়ার গড়ন অদ্ভুত। এটাকে ব্যবহার করে কিছু মানুষ ছবি তুলেছেন। মজা করে তোলা সেইসব ছবি পোস্ট করেছেন তারা ইন্সটাগ্রামে। এখানে তার কয়েকটি ছবি ইন্টারনেট থেকে নিয়ে প্রকাশ করা হলো। দেখুন কুমড়া দিয়ে কেমন উপস্থাপনা-
উল্লেখ্য, এখানে কেউ এসব ছবি দেখে বিরক্ত হবেন না। এগুলো একান্তই মজা করার জন্য-
মনোলোভা এক ছোট্ট দ্বীপ
চারদিকে থই থই নীল পানি। বাতাসের সঙ্গে খেলা করছে তারা। সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছু সামুদ্রিক পাখি। নীল পানির ঝাঁপটা এসে পা ধুয়ে দিচ্ছে হামনেস্কারের উপকূলে ছোট্ট এক বিস্ময়কর দ্বীপের। ছোট্ট সেই দ্বীপটি এক সময় প্যাটার নোস্টার লাইট হাউজ বা আলোকবর্তিকা হিসেবে পরিচিত ছিল। এরপর সেখানে গড়ে উঠেছে একটি আবাসিক ভবন। তাতে আছে ৯টি বেডরুম। এতে থাকতে পারেন ১৮ জন অতিথি। আছে একটি রেস্তোরাঁ। একটি বার এবং একটি আউটডোর ক্যাফে। অতিথিরা চাইলেই ঘর থেকে বেরিয়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যেতে পারেন। আনন্দে নৌবিহার করতে পারেন। স্কুবা ডাইভ দিতে পারেন। অথবা শখের বসে সেখানে রান্না শিখতে পারেন। আর সমুদ্রের পানি, পানির ঢেউয়ের উদ্দামতা তো আছেই।
তবে ভয়ের ব্যাপার হলো গভীর সমুদ্রে ছোট্ট এই দ্বীপটির আশপাশে, ধারেকাছে কোনো জনবসতি নেই। বহু, বহু দূরে মানুষের বসতি। এই আবাসনটির নাম দেয়া হয়েছে ‘প্যাটার নোস্টার- এ হোম অন দ্য হরাইজন’। প্রথম নামটি দেয়া হয়েছে বিংশ শতাব্দীতে ওই স্থানটি লাইট হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো- সেখান থেকে। ওই দ্বীপটির ধারাকাছে কোনো জনবসতি নেই। এর ওপর ভিত্তি করে এর নামের শেষ অংশ নির্বাচন করা হয়েছে।
হামনেস্কার নামের এই ছোট্ট দ্বীপটি সুইডেনের পশ্চিম উপকূলে গোথেনবার্গ থেকে ২২ মাইল দূরে। আমরা এখন সেই দ্বীপের ‘প্যাটার নোস্টার- এ হোম অন দ্য হরাইজন’-এর ভিতর প্রবেশ করবো। তবে বাস্তবে নয়, ডেইলি মেইলের সৌজনে আমরা ছবির মাধ্যমে সেখানে প্রবেশ করবো। দেখবো এর ভিতর, বাইরে কেমন সবকিছু সাজানো। দ্বীপটিই বা কেমন। চলুন ডেইলি মেইলের সঙ্গে আমরাও দেখে আসি দ্বীপটি-
চোখ ধাঁধানো আর্ট
জাস্ট চোখে ধাঁধা লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা। একবার ছবিটার দিকে তাকিয়ে দেখুন! কি দেখতে পেলেন? মনে হচ্ছে না যে, মাথার ভিতর ব্লাক হোলের মতো কোনো গর্তের ছবি এটি? কিন্তু আসলে তা নয়। চোখ ধাঁধানো আর্ট বা চিত্রকর্ম এটি। ট্যাট্ট শিল্পী ম্যাট পেহরসন এমন সুন্দর আর্ট অঙ্কন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রদর্শন করেছেন, কেমন খাঁটি ও নিখুঁত ট্যাট্টু আঁকতে পারেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ’য় অবস্থিত তার জিয়ন ট্যাট্টু কোম্পানি।
সেখানে নতুন চরম মাত্রার প্রজেক্ট শুরু করেছেন তিনি। উদ্ভট আলোক মায়ার এক বর্ণালী এঁকেছেন তিনি এক ক্লায়েন্ট বা কাস্টমারের মাথায়। ওই ব্যক্তি আবার তার বন্ধু। নাম রায়ান। এর জন্য তিনি প্রথমে রায়ানকে হালকা করে টাক করে নেন। তারপর সুচতুর কিছু শেড ব্যবহার করেন। তারপর যা করেছেন তার প্রমাণ এই ছবি। এই ছবিটি তিনি এপ্রিলে পোস্ট করেছিলেন ইন্সটাগ্রামে। সেখানে রয়েছে তার কমপক্ষে ৬৫ হাজার ৮০০ অনুসারী।
দেখুন যুবতীর কাণ্ড
ইন্সটাগ্রাম মডেল হিসেবে পরিচিত আনাস্তাসিয়া পোকরেশচুক। ৩০ বছর বয়সী যুবতী। এরই মধ্যে সারাবিশ্বে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। কারণ, তিনি চান তার চিবুকখানা পৃথিবীর সবার চেয়ে বড় দেখায়। এ জন্য এখন থেকে চার বছর আগে শুরু করেছেন চিবুক বিস্তৃতকরণ। এ জন্য তার এরই মধ্যে খরচ হয়ে গেছে ২০০০ পাউন্ড বা প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। এখন তার মুখ অন্য অনেক মানুষের মুখের চেয়ে ভিন্ন। দেখতে অন্যরকম তিনি।
তাতেও তিনি থামবেন না। চিবুক আরো বিস্তৃত করবেন। আনাস্তাসিয়া পোকরেশচুক-এর বাড়ি ইউক্রেনের কিয়েভে। তিনি বলেছেন, এমন মুখাবয়বে তাকে যেমনটা দেখায় নিজেকে তেমন দেখতেই ভালবাসেন তিনি। তার ভাষায়, আপনি হয়তো মনে করবেন আমার চিবুকখানা অনেক বড়। কিন্তু আমি বলি এখনও আমার চিবুক অনেক ছোট্ট। একে আরো বড় করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি ঠোঁট এবং মুখের পার্শ্বদেশ ট্রিটমেন্ট করিয়েছেন। এ জন্য তাকে নাকি খুব বেশি ফ্যাসিয়াল ব্যবহার করতে হয় না। ইন্সটাগ্রামে তার অনুসারীর সংখ্যা ২ লাখ ২০ হাজার। ২০২০ সালের জুলাইয়ে তিনি উপস্থিত হন টেলিভিশন শো ‘দিস মর্নিং’-এ। সেখানে তিনি জানান, তাকে চিকিৎসকরা বারণ করেছেন। তা সত্তে¡ও তিনি চিবুক বড় করা থেকে বিরত থাকবেন না।
এ কেমন দক্ষতা!
রাকেশ বি এবং প্রভাকর রেড্ডি পি। দু’জনেই ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের। তাদের একজন মার্শাল আর্ট শিল্পী। রাকেশ বি’র চোখ বেঁধে দেয়া হলো। আর প্রভাকর রেড্ডি পি’ মাটিতে শুয়ে পড়লেন।
তার চারপাশে রাখা হলো খোলস ছাড়ানো নারকেল। অন্যদিকে চোখ বাঁধা অবস্থায় রাকেশ বি তার শক্তি ও দক্ষতা প্রদর্শন করলেন। তিনি এক মিনিটের মধ্যে হাতুড়ি দিয়ে অন্য সহযোগীর শরীরের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা নারকেলের কমপক্ষে ৫০টি নারকেল ফাটিয়েছেন।
এর মধ্য দিয়ে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছেন। পরে ওই নারকেল অন্ধ্র প্রদেশের নেলোরে স্থানীয় পশুদের দিয়ে খাইয়ে দেয়া হয়। এ ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের অক্টোবরে।
কলার ৬ উপকারিতা
কলা। আমাদের দেশে এখানে ওখানে জন্মে ফলটি। এর চাষেও খুব একটা যে যতœ নিতে হয় এমন না। বলতে গেলে গাছ মাটিতে পুঁতে রাখলেই কলাগাছ জন্মে, তাতে কলা ধরে। কিন্তু এই কলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্যমানযুক্ত একটি খাবার। সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা হয়তো এতে কোনো গুরুত্বই দিই না। চলুন দেখে নেয়া যাক কলায় কি কি আছে।
করায় আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-বি ৬। এ ছাড়া ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস হলো কলা। আছে ডায়েটারি ফাইবার ও ম্যাঙ্গানিজ। এর অর্থ কি? এ বিষয়ে টিয়ং বাহরু কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ডায়েটিটিক্স ডিপার্টমেন্ট কি বলছে চলুন শুনে আছি।
কলা শুধু ভিটামিন ও ফাইবার পাওয়ার উত্তম একটি উৎস নয়। একই সঙ্গে এটি চর্বিমুক্ত ও কোলেস্টেরলমুক্ত। টিয়ং বাহরু কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের সদস্য সিং হেলথ গ্রæপের পুষ্টিবিদ মিসেস পেগি টান বলেছেন-
১. ভিটামিন বি৬ এর সবচেয়ে উত্তম ফলের মধ্যে কলা অন্যতম। কলা থেকে ভিটামিন বি৬ আপনার শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। প্রতিদিন আপনার শরীরে যে পরিমাণ ভিটামিন বি৬ প্রয়োজন তার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ সরবরাহ দিতে পারে একটি মাঝারি আকারের কলা।
ভিটামিন বি৬ আপনার শরীরে লোহিত রক্তকোষ তৈরি করে।
বিপাকের মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বিকে শক্তিতে পরিণত করে।
এমাইনো এসিডকে বিপাক করে।
আপনার লিভার এবং কিডনি থেকে অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বের করে দেয়।
আপনার ¯œায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
অন্তঃসত্ত¡া নারীদের জন্য ভিটামিন বি৬ খুবই উপকারী। গর্ভস্থ শিশুর বেড়ে উঠায় এটা সহায়তা করে।
২. হয়তো মনে করতে পারেন ভিটামিন সি-এর ভাল উৎস নয় কলা। কিন্তু একটি মাঝারি আকারের কলা আপনাকে প্রতিদিন আপনার শরীরের জন্য যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন তার শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহ দেবে।
ভিটামিন সি-এর কাজ-
ভিটামিন সি আপনার আমার শরীরের কোষ ও টিস্যু ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে।
আমাদের শরীরে ভালভাবে আয়রন বা লোহা শোষণে সাহায্য করে।
আমাদের শরীরে ক্যালোজেন নামে একটি প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। এই প্রোটিনটি আমাদের ত্বক, হাড় ও শরীরকে একসঙ্গে ধরে রাখে।
ভিটামিন সি সেরোটোনিন নামে একটি হরমোন সৃষ্টি করে আমাদের ব্রেনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই হরমোনটি আমাদের ঘুমচক্র, মুড এবং হতাশা বা বেদনার অনুভূতিতে প্রভাব রাখে।
৩. আমাদের শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজের প্রয়োজন হয় তার শতকরা প্রায় ১৩ ভাগ সরবরাহ দিতে পারে একটি মাঝারি আকারের কলা। কোলেজেন নামের প্রোটিন উৎপাদনে আমাদের শরীরকে সাহায্য করে ম্যাঙ্গানিজ। এর মাধ্যমে আমাদের ত্বক ও অন্য কোষকে ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা করে।
৪. কলার ভিতর প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এই পটাশিয়াম আমাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তচাপের জন্য খুবই উপকারী। একটি মাঝারি আকারের কলা আমাদেরকে প্রায় ৩২০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম দিয়ে থাকে। যা, আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহ করে। উপরন্তু কলায় থাকে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম। কম মাত্রার সোডিয়াম এবং উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম মিলে সম্মিলিতভাবে আমাদের উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৫. কলা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে কলা। প্রতিদিন আমাদের যে পরিমাণ ফাইবার প্রয়োজন তার শতকরা প্রায় ১০-১২ ভাগ সরবরাহ করে একটি মাঝারি মানের কলা। সিঙ্গাপুরের হেলথ প্রোমোশন বোর্ড প্রতিদিন নারীদের জন্য ২০ গ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ২৬ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার গ্রহণের সুপারিশ করেছে। শোষণযোগ্য এবং শোষণের অযোগ্য ফাইবার- উভয়েই আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখে। শোষণযোগ্য ফাইবার আমাদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চর্বিযুক্ত উপাদান যেমন কোলেস্টেরল থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করে। শোষণের অযোগ্য ফাইবার ওজন বাড়ায়। পায়খানা নরম করে। আমাদের পেটে খাবারের অবশিষ্টাংশ চলাচল নিয়মিত করে তোলে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় ও সুস্থ রাখে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। পাকস্থলির আলসার ভাল হয়। হৃদরোগ থেকে স্বস্তি দেয়।
৬. কলা আমাদের শক্তি দেয়। চর্বি ও কোলেস্টেরল কমায়। কলায় তিনটি প্রাকৃতিক সুগার বা চিনি আছে। সেগুলো হলো- ক. সুক্রোজ, খ. ফ্রুকটোজ এবং গ. গøুকোজ। এরা আমাদেরকে চর্বি ও কোলেস্টেরলমুক্ত শক্তি দেয়। বিশেষ করে শিশু ও যারা অ্যাথঔেঁ তাদের জন্য সকালের নাস্তায় কলা একটি আদর্শ খাবার। মধ্যাহ্নে খাবার পর অথবা খেলাধুলা শেষে একটি কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।































































