ব্রিজিত বার্দোর বাড়িতে কি আছে?

আজ আপনাদেরকে নিয়ে যাবো ব্রিজিত বার্দো’র বাড়ির ভিতর। যারা তাকে না চেনেন, তাদেরকে বলছি, তিনি ১৯৫০ ও ১৯৬০ এর দশকের ফরাসি চলচ্চিত্রের ভীষণ বিখ্যাত একজন অভিনেত্রী। তার যৌবনের উচ্ছলতা দিয়ে সারা বিশ্বকে মাত করে দিয়েছিলেন। ছিলেন রগরগে মডেল, গায়িকা। তার নাম উচ্চারণ করলেই সবার সামনে ভেসে উঠতো একজন আবেদনময়ী অভিনেত্রীর ছবি। তিনি বর্তমানে কেমন আছেন? চলুন দেখে আসি তাকে। তিনি সেইন্ট ট্রোপের এক বাড়িতেই বসবাস করছেন গত ৬২ বছর।  বর্তমানে তার বয়স ৮৫ বছর। বাইরের জগত থেকে বিচ্ছিন্ন চলচ্চিত্রে ঝড়ো এক ইনিংস খেলে তিনি ৬২ বছর আগে সিদ্ধান্ত নেন বসবাস করবেন ফ্রান্সের উপকূলীয় শহর লা মাদ্রাগু’তে। সেখানে তিনি যে বাড়িতে বসবাস করছেন তার সামনেই ওয়াটারফ্রন্ট। কিন্তু বাইরের দুনিয়া থেকে তার বাড়িটি উঁচু দেয়াল, বেড়া তুলে আলাদা করে ফেলা হয়েছে। ভিতরে আছে নানা রকম বিশালাকার গাছ। এখানেই তিনি তার শান্তি আর ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে খুঁজে নিয়েছেন। বে অব ক্যানোউবিয়ার থেকে দৃষ্টিগোচর হয় না তার বাড়ি। তিনি একবার ভ্যানিটি ফেয়ারকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, এই বাড়িটি একেবারে শান্ত। এখানে আমি মেরিলিন মনরো এবং রোমি শিন্ডারের মতো জীবন অতিবাহিত করতে চাই। 
আমি শুধু আমার ভিতর থাকতে চেয়েছি
যদিও তিনি ১৯৫০ এর দশকের একজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র তারকা, তবু ওই সময়টাকে তার জীবনের ইতিবাচক হিসেবে দেখেন না সব সময়। ১৯৭৩ সালে যখন তার খ্যাতি সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন তিনি অভিনয় বন্ধ করে দেন। সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তারপরই তার ভাষায়, খুঁজে নেন আসল জীবণ। তার ভাষায় ‘এন্ড গড ক্রিয়েটেড ওম্যান’ ছবিতে অভিনয়ের পরে এবং আগে মনে হয়েছিল, আমি যা হতে চাই তা তো কখনোই হতে পারি নি। আমার সেই চাওয়া ছিল সরাসরি এবং সততার। উল্লেখ্য, তিনি নির্লজ্জ যৌনতা এবং পিন-আপ গার্ল হিসেবে সারা বিশ্বে নিন্দিত হয়েছেন। এ সম্পর্কে ব্রিজিত বার্দো বলেন, এসবে মোটেও ক্ষুব্ধ হইনি আমি। আমি তো এমনটা হতে চাই নি। আমি শুধু আমার হতে চেয়েছি।

প্রকৃতির সঙ্গে বসবাস

ব্রিজিত বার্দো যেখানে বসবাস করছেন জীবনের এতগুলো দিন, তা সাজানো হয়েছে তার ইচ্ছে অনুযায়ী।  এর ভিতর ছড়ানো আছে প্রশান্তি। তিনি স্বামী বার্নার্ড ডি’ওরমালেকে নিয়ে বসবাস করছেন সেখানে। তাদের দু’জনের কেউই খুব বেশি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাত দেন না। এখন তারা নিজেদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখেন। চারদিকে সাজানো গাছপালা, পশুপাখি, নিরিবিলি পরিবেশের মধ্যে বসবাস করছেন প্রকৃতির সঙ্গে। 

বাড়ির ভিতর কেমন

ব্রিজিত বার্দোর বাড়ির ভিতর দেখতে উষ্ণ এক ইন্টেরিয়রে সাজানো। ১৯৭০ এর দশকের প্রভাব লক্ষণীয়। একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি সাবেক এই অভিনেত্রীর কাছে এক আবর্জনা। কলম আর কাগজ ব্যবহার করে তিনি এখনও লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেন। তিনি যে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা কাজ করে পশুর অধিকার নিয়ে। অনেক বছর ধরে তিনি পশুর কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছেন, পশু রক্ষার চেয়ে গাড়ি রক্ষার জন্য অধিক আইন আছে। এটা এক অদ্ভুত ব্যাপার। এসব পশুর জন্যই আমি কখনো নিজেকে বুড়ো অথবা অনাবশ্যক মনে করি না। তার এসব কথার প্রতিফলন ঘটে তার বাড়ির ভিতরেই। পুরো বাড়িতেই আছে ছাগল, ঘোড়া, ভেড়া এমন কি শূকর। 

অসুস্থ ব্রিজিত বার্দো

সেইন্ট ট্রোপেজে অনেক বছর ধরে আইসোলেশনে ব্রিজিত বার্দো। তবে আর্থাইটিস সহ নানা রকম স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন তিনি। এ জন্য তাকে একটি লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। অসুস্থ হলে কি! তিনি জীবনকে উপভোগ করেন। এখনও প্রতিদিন এক থেকে দুই গøাস শ্যাম্পেন পান করেন। 

আরও ছবি





Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Powered by Blogger.
  • ()

Recent Posts

Pages