কলার ৬ উপকারিতা

কলা। আমাদের দেশে এখানে ওখানে জন্মে ফলটি। এর চাষেও খুব একটা যে যতœ নিতে হয় এমন না। বলতে গেলে গাছ মাটিতে পুঁতে রাখলেই কলাগাছ জন্মে, তাতে কলা ধরে। কিন্তু এই কলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ, খাদ্যমানযুক্ত একটি খাবার। সহজে পাওয়া যায় বলে আমরা হয়তো এতে কোনো গুরুত্বই দিই না। চলুন দেখে নেয়া যাক কলায় কি কি আছে। করায় আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন-বি ৬। এ ছাড়া ভিটামিন সি-এর একটি চমৎকার উৎস হলো কলা। আছে ডায়েটারি ফাইবার ও ম্যাঙ্গানিজ। এর অর্থ কি? এ বিষয়ে টিয়ং বাহরু কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ডায়েটিটিক্স ডিপার্টমেন্ট কি বলছে চলুন শুনে আছি। কলা শুধু ভিটামিন ও ফাইবার পাওয়ার উত্তম একটি উৎস নয়। একই সঙ্গে এটি চর্বিমুক্ত ও কোলেস্টেরলমুক্ত। টিয়ং বাহরু কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের সদস্য সিং হেলথ গ্রæপের পুষ্টিবিদ মিসেস পেগি টান বলেছেন-
১. ভিটামিন বি৬ এর সবচেয়ে উত্তম ফলের মধ্যে কলা অন্যতম। কলা থেকে ভিটামিন বি৬ আপনার শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। প্রতিদিন আপনার শরীরে যে পরিমাণ ভিটামিন বি৬ প্রয়োজন তার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ সরবরাহ দিতে পারে একটি মাঝারি আকারের কলা। ভিটামিন বি৬ আপনার শরীরে লোহিত রক্তকোষ তৈরি করে। বিপাকের মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট এবং চর্বিকে শক্তিতে পরিণত করে। এমাইনো এসিডকে বিপাক করে। আপনার লিভার এবং কিডনি থেকে অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বের করে দেয়। আপনার ¯œায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অন্তঃসত্ত¡া নারীদের জন্য ভিটামিন বি৬ খুবই উপকারী। গর্ভস্থ শিশুর বেড়ে উঠায় এটা সহায়তা করে।
২. হয়তো মনে করতে পারেন ভিটামিন সি-এর ভাল উৎস নয় কলা। কিন্তু একটি মাঝারি আকারের কলা আপনাকে প্রতিদিন আপনার শরীরের জন্য যতটুকু ভিটামিন সি প্রয়োজন তার শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহ দেবে। ভিটামিন সি-এর কাজ- ভিটামিন সি আপনার আমার শরীরের কোষ ও টিস্যু ধ্বংস হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। আমাদের শরীরে ভালভাবে আয়রন বা লোহা শোষণে সাহায্য করে। আমাদের শরীরে ক্যালোজেন নামে একটি প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে। এই প্রোটিনটি আমাদের ত্বক, হাড় ও শরীরকে একসঙ্গে ধরে রাখে। ভিটামিন সি সেরোটোনিন নামে একটি হরমোন সৃষ্টি করে আমাদের ব্রেনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই হরমোনটি আমাদের ঘুমচক্র, মুড এবং হতাশা বা বেদনার অনুভূতিতে প্রভাব রাখে।
৩. আমাদের শরীরে প্রতিদিন যে পরিমাণ ম্যাঙ্গানিজের প্রয়োজন হয় তার শতকরা প্রায় ১৩ ভাগ সরবরাহ দিতে পারে একটি মাঝারি আকারের কলা। কোলেজেন নামের প্রোটিন উৎপাদনে আমাদের শরীরকে সাহায্য করে ম্যাঙ্গানিজ। এর মাধ্যমে আমাদের ত্বক ও অন্য কোষকে ক্ষতির মুখ থেকে রক্ষা করে।
৪. কলার ভিতর প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায়। এই পটাশিয়াম আমাদের হৃদযন্ত্র এবং রক্তচাপের জন্য খুবই উপকারী। একটি মাঝারি আকারের কলা আমাদেরকে প্রায় ৩২০ থেকে ৪০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম দিয়ে থাকে। যা, আমাদের প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় পটাশিয়ামের শতকরা প্রায় ১০ ভাগ সরবরাহ করে। উপরন্তু কলায় থাকে অল্প পরিমাণ সোডিয়াম। কম মাত্রার সোডিয়াম এবং উচ্চ মাত্রার পটাশিয়াম মিলে সম্মিলিতভাবে আমাদের উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৫. কলা আমাদের হজম প্রক্রিয়াকে সহায়তা করে। গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাকে কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে কলা। প্রতিদিন আমাদের যে পরিমাণ ফাইবার প্রয়োজন তার শতকরা প্রায় ১০-১২ ভাগ সরবরাহ করে একটি মাঝারি মানের কলা। সিঙ্গাপুরের হেলথ প্রোমোশন বোর্ড প্রতিদিন নারীদের জন্য ২০ গ্রাম এবং পুরুষদের জন্য ২৬ গ্রাম ডায়েটারি ফাইবার গ্রহণের সুপারিশ করেছে। শোষণযোগ্য এবং শোষণের অযোগ্য ফাইবার- উভয়েই আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখে। শোষণযোগ্য ফাইবার আমাদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একই সঙ্গে চর্বিযুক্ত উপাদান যেমন কোলেস্টেরল থেকে মুক্ত থাকতে সহায়তা করে। শোষণের অযোগ্য ফাইবার ওজন বাড়ায়। পায়খানা নরম করে। আমাদের পেটে খাবারের অবশিষ্টাংশ চলাচল নিয়মিত করে তোলে। ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থেকে পরিপাকতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয় ও সুস্থ রাখে। এর ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। পাকস্থলির আলসার ভাল হয়। হৃদরোগ থেকে স্বস্তি দেয়।
৬. কলা আমাদের শক্তি দেয়। চর্বি ও কোলেস্টেরল কমায়। কলায় তিনটি প্রাকৃতিক সুগার বা চিনি আছে। সেগুলো হলো- ক. সুক্রোজ, খ. ফ্রুকটোজ এবং গ. গøুকোজ। এরা আমাদেরকে চর্বি ও কোলেস্টেরলমুক্ত শক্তি দেয়। বিশেষ করে শিশু ও যারা অ্যাথঔেঁ তাদের জন্য সকালের নাস্তায় কলা একটি আদর্শ খাবার। মধ্যাহ্নে খাবার পর অথবা খেলাধুলা শেষে একটি কলা খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।
Share:

No comments:

Post a Comment

Search This Blog

Powered by Blogger.
  • ()

Recent Posts

Pages